আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নেয়ামত হলো কন্যা সন্তান, যারা মূলত ঘরে রহমত ও বরকত নিয়ে আসে। আপনি যদি আপনার নবজাতক কন্যার জন্য আল্লাহর পছন্দের কোনো অর্থবহ নাম কিংবা পবিত্র কুরআন থেকে সুন্দর কোনো নাম খুঁজে থাকেন, তবে এখান থেকেই তা নির্বাচন করতে পারেন।
অনেকেই গুগলে আল্লাহর পছন্দের সুন্দর ও ইসলামিক নামগুলো খুঁজে থাকেন, আর আজকের এই আয়োজনটি মূলত তাদের জন্যই। এই নামগুলো সাধারণত মহান আল্লাহর গুণাবলী, সৃষ্টিজগতের অপরূপ সৌন্দর্য, ভালোবাসা, দয়া ও অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
মূলত আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের গুণাবলী এবং কুরআনের নির্দেশনার আলোকে আপনার সোনামণির নাম রাখা একটি উত্তম সিদ্ধান্ত। তাই আপনার আদরের কন্যার জন্য একটি চমৎকার ও বরকতময় নাম বেছে নিতে আমাদের এই বিস্তারিত তালিকাটি দেখে নিতে পারেন।
আল্লাহর পছন্দের মেয়েদের নাম অর্থসহ
সন্তানের জন্য সুন্দর ও অর্থবহ নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে থাকি। বিশেষ করে যারা সরাসরি পবিত্র কুরআন থেকে নিজের মেয়ে শিশুর জন্য সুন্দর এবং ইসলামিক নাম খুঁজছেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই আজকের এই আয়োজন।
আমরা চেষ্টা করেছি কুরআনের আলোকে এমন সব নামের তালিকা বাংলা অর্থসহ তুলে ধরতে, যা একইসাথে শ্রুতিমধুর এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আশা করছি, এই তালিকাটি আপনাকে আপনার আদরের সন্তানের জন্য একটি চমৎকার ও বরকতময় নাম খুব সহজেই খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
নাম |
অর্থ |
|---|---|
| ইসরাত | সাহায্য |
| মাসুদা | সৌভাগ্যবতী |
| তাইয়্যিবা | পবিত্র |
| সালওয়া | যা সুখ বয়ে আনে |
| তহুরা | পবিত্রতা |
| মাশকুরা | কৃতজ্ঞতা প্রাপ্ত |
| কামরুন | ভাগ্য |
| মালিহা | রূপসী |
| শাহানা | রাজকুমারী |
| উম্মে আয়মান | ভাগ্যবতী |
| উম্মে হানি | সুদর্শন |
| আলিয়া ফাহমিদা | পুণ্যবতী, বুদ্ধিমতী |
| বিজলী | বিদ্যুৎ |
| তাহমিদা | প্রশংসা করা |
| বকুল | ফুলের নাম |
| নুরজাহান | বিশ্বের আলো |
| আসমা রায়হানা | অতুলনীয় সুগন্ধি ফুল |
| বর্ষা | ডুবন্ত জল |
| মাহজাবীন | চাঁদ কপাল |
| আনিসা তাহসিন | সুন্দর, উত্তম |
| নাজদা | সাহায্য; উদ্ধার |
| নাজনীন | কোমল দেহ |
| আতিকান | পবিত্র |
| মিনা | স্বর্গ |
| কাশফিয়া | প্রকাশমান |
| লিমা | নয়ন; আখি |
| আসমা ইয়াসমিন | অতুলনীয় সুন্দর ফুল |
| আফরোজা | আলোকময়; সুন্দর |
| হেনা | মেহেদি |
| খুরশিদা | সূর্য |
| নামিরা | নির্মল |
| সিমা | নির্দিষ্ট দূরত্ব |
| জামিলা | সুন্দরী |
| আফিয়া আয়মান | পুণ্যবতী, শুভ |
| সাহেবা | বন্ধু |
| নিশাত সালমা | আনন্দ, প্রশান্ত |
| সারাফ ওয়াসিমা | গানরত সুন্দরী |
| ছুরাইয়া | নক্ষত্রপুঞ্জ |
| বিলকিস | দেশের রানী |
| আফিয়া শাহানা | পূর্ণবতী রাজকুমারী |
| আলিয়া | নিঃশ্বাস ফেলা / উচ্চ |
| আবিদা | উপাসক |
| আলা | অনুগ্রহ |
| আলিমা | পণ্ডিত; জ্ঞানী |
| আলিনা | স্বর্গের সিল্ক; নরম, সূক্ষ্ম |
| আমনা | বিশ্বস্ত; বিশ্বাসযোগ্য |
| আমানি | শুভ কামনা |
| আমিনা | বিশ্বস্ত; অনুগত |
| অহমিনা | যে নিরাপদ |
| আনিয়া | যত্নশীল; প্রেমময় |
| আসিয়া | চিন্তাশীল; কাতর |
| আসমা | আকাশ-উচ্চ; উচ্চবিত্ত |
| আইদাহ | অসুস্থদের দর্শনার্থী; যে ফিরে আসে |
| আয়েশা | জীবন; জীবিত (নবীর স্ত্রী) |
| আমিরা | রাজকুমারী |
| আকিলা | বুদ্ধিমান; জ্ঞানী |
| আজ্জা | তরুণ গজেল |
| হুদা | নির্দেশনা |
| জান্নাহ | জান্নাত |
| লিনা | তরুণ পাম গাছ |
| মরিয়ম | হযরত ঈসা (আঃ) এর মাতা |
| নুহা | বুদ্ধিমত্তা |
| আনিসা | বন্ধুত্বপূর্ণ ও নম্র |
| মুমতাজ | মনোনীত |
| মুবানী | সুস্পষ্ট |
| সুফিয়া | আধ্যাত্মিক সাধনাকারী |
| সাহেবী | বান্ধবী |
| ফারহান | আনন্দিতা |
মহান আল্লাহর পছন্দের মেয়েদের নাম এর তালিকা
আল্লাহর পছন্দের অর্থবহ নাম, সৌদি আরবের জনপ্রিয় ইসলামিক নাম কিংবা ছোট সোনামণিদের জন্য সুন্দর নাম যারা ইন্টারনেটে খুঁজে থাকেন, তাদের জন্যই আজকের এই লেখাটি।
- মুমতাহিনা – অর্থ – উৎফুল্লতা
- আয়েশা – অর্থ – জীবন জীবিত
- সাজেদা – অর্থ – ধার্মিক
- আমিরা – অর্থ – রাজকুমারী
- সাহিরা – অর্থ – পর্বত
- আকিলা – অর্থ – বুদ্ধিমান ; জ্ঞানী
- রোশনী – অর্থ – আলো
- আয়া – অর্থ – কোরআনের আয়াত
- ফাহিমা – অর্থ – বুদ্ধিমতী
- আয়া – অর্থ – উচ্চ
- ইরতিজা – অর্থ – অনুমতি
- দনিয়া – অর্থ – কাছে কাছে
- রোমানা – অর্থ – ডালিম
- দুআ – অর্থ – প্রার্থনা
- রুমালী – অর্থ – কবুতর
- ফাতেমা – অর্থ – নবী কন্যা
- রুকাইয়া – অর্থ – উচ্চতর
- হুদা – অর্থ – নির্দেশনা
- শিরিন – অর্থ – সুন্দরী
- জান্নাহ – অর্থ – জান্নাত নামের মেয়েরা কেমন হয়
- কিয়ারা – অর্থ – স্পষ্ট ; উজ্জ্বল
- লিনা – অর্থ – তরুণ পাম গাছ
- নুসরাত – অর্থ – সাহায্য
- মরিয়ম – অর্থ – হযরত ঈসা (আঃ) এর মাতা
- নাজিফা – অর্থ – পবিত্র
- আয়েশা – অর্থ – জীবন্ত ; প্রাণবন্ত সমৃদ্ধ এবং উন্নত
- শাহিদা – অর্থ – সৌরভ সুবাস
- সাফা – অর্থ – পবিত্রতা ;স্বচ্ছতা ;মক্কার অন্যতম পাহাড়
- মাসুমা – অর্থ – নিষ্পাপ
- তাহিয়া – অর্থ – সম্মানকারী
- সুলতানা – অর্থ – মহারানী
- আলিয়া – অর্থ – নিঃশ্বাস ফেলা
- হালিমা – অর্থ – য়ালু
- সুমাইয়া – অর্থ – উচ্চ উন্নত
- সুরাইয়া – অর্থ – বিশেষ একটি নক্ষত্র
- ফাতেমা – অর্থ – নিষ্পাপ
- আলিনা – অর্থ – স্বর্গের সিল্কি ,নরম ,সূক্ষ
- ফাতেহা – অর্থ – আরম্ভ
- আবিদা – অর্থ – উপাসক
- নাফিসা – অর্থ – মূল্যবান
- আলিমা – অর্থ – পন্ডিত; জ্ঞানযোগ্য
- ফাজেলা – অর্থ – বিদুষী
- অহমিনা – অর্থ – যে নিরাপদ
- মুরশীদা – অর্থ – পথর্শিকা
- আমিনা – অর্থ – বিশ্বস্ত ; অনুগত
- আইদাহ – অর্থ – সাক্ষাৎকারিনী
- হাবিবা – অর্থ – জাহান প্রিয় পৃথিবী
- হারেসা – অর্থ – রক্ষাকারী
- হাসিবা – অর্থ – সম্ভ্রান্ত বংশীয়
- হাফসা – অর্থ – সিংহী
- তাকি – অর্থ – খোদাভীরু
- তাকিয়া – অর্থ – পবিত্রতা
- মাহফুজা – অর্থ – নিরাপদ
- মাহমুদা – অর্থ – প্রশংসিত
- মুনতাহার – অর্থ – পবিত্র
- মাসুদা – অর্থ – সৌভাগ্যবতী
- হাসিনার নুসরাত – অর্থ – সুন্দরী সাহায্যকারী
- হানিয়া – অর্থ – সুখী
- সাফা – অর্থ – পবিত্রতা, স্বচ্ছতা, মক্কার অন্যতম পাহাড়
- আয়া – অর্থ – কোরানের আয়াত; আল্লাহর অস্তিত্বের চিহ্ন
- আনিসা – অর্থ – যে অন্যদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং নম্র
- রাজানী – অর্থ – এমন একমহিলা যে খুবই একচেটিয়া প্রকৃতির
- রাহেলা – অর্থ – খুবই সুখী একজন মহিলাকে বোঝানো হয়েছে
- আমিনা – অর্থ – একটি মেয়ে যার উপর আপনি বিশ্বাস রাখতে পারেন
- মাহিরা – অর্থ – একটি মেয়ে যে কানায় কানায় প্রাণবন্ত তামীমা
হাদিস অনুযায়ী মেয়েদের নাম অর্থসহ
- আকলিমা – অর্থ – সম্রাজ্ঞী
- আফরোজা – অর্থ – জ্ঞানী
- তারানা – অর্থ – সঙ্গীত
- তারীফা – অর্থ – শৌখিন
- তালিবা – অর্থ – শিক্ষার্থী
- তাশরীফা – অর্থ – সম্মা
- জালিসা – অর্থ – স্বজন/ আপনজন
- জালিসাতুন সাদিকা – অর্থ – চোখের পাতা
- জিন্নাতুন – অর্থ – সফল ব্যক্তি
- তাহমিনা – অর্থ – অনুমান
- তাহসীনা – অর্থ – উন্নয়নকারী
- হামিদা – অর্থ – প্রশংসা কারী
- হাবিবা – অর্থ – প্রিয়
- হাবিবা কুলসুম – অর্থ – প্রিয় দানশীল
- তুরফা – অর্থ – প্রাচুর্য
- আফিয়া – অর্থ – পুণ্যবতী
- আয়েশা – অর্থ – স্বাচ্ছন্দ জীবনযাপনকারি
- আফিফা – অর্থ – নির্মল
- তুহাইফা – অর্থ – ছোট উপহার
- শাহানা – অর্থ – রাজকুমারী
- হিজবা – অর্থ – পুরস্কৃত
- হিমা – অর্থ – আশ্রয়স্থল
- তাহিয়া – অর্থ – অভিবাদন
- তৌফীকা – অর্থ – সমন্বয়সাধানকারী
- তৌহীদা – অর্থ – ঐক্যবদ্ধকরণ
- তাহসীন – অর্থ – সুন্দর
- জান্নাতুল – অর্থ – বাগান
- জারিয়াহ – অর্থ – নৌকা
- জাকেরাতুন – – স্মরণকারীনি
- জুহরাহ – অর্থ – সৌন্দর্য
- জামিলা তাইয়্যেবা – অর্থ – পবিত্র সুন্দরী
- জামেরা – অর্থ – পাতলা
- জারিন তাসনিম – অর্থ – সুবর্ণ ঝর্ণা
- জারিন – অর্থ – স্বর্ণ
- হানিয়া নাঈম – অর্থ -সুখী জীবনযাপন কারিনী
- হাদিসা – অর্থ – অল্প বয়সী
- হাফসা – অর্থ – কোমল মনের অধিকারী
- হাফসা পারভিন – অর্থ – কোমল মনের অধিকারী বৃত্তিময় তারা
- হানিফা- অর্থ – খাঁটি বিশ্বাসী
- হানিফা তাহমিনা – অর্থ – মূল্যবান বিশ্বাসী
- নিলুফা – অর্থ – পদ্ম
- ফাতেমা – অর্থ – নিষ্পাপ
- ফৌজিয়া – অর্থ – বিজয় অর্জনকারী
- ফাবিহা – অর্থ – শুভ
- তানিশা – অর্থ – সুখ
- তানিশা – অর্থ – শুদ্ধ
- তাসিফা – অর্থ – চতুর
- তাসমিয়া – অর্থ – বিসমিল্লাহ
- তাসকিনা – অর্থ – সান্তনা
- তাবাসসুম – অর্থ – মুচকি হাসি
- তাসলিমা – অর্থ – সম্পূর্ণ
- হাফেজা – অর্থ – পবিত্র কুরআন মুখস্থ করি
- হালিমা – অর্থ – দয়ালু
- হামিদা – অর্থ – প্রশংসিত
- আসিয়া – অর্থ – শান্তি স্থাপন করি
- আশরাফী – অর্থ – সম্মানিত
- আমিনা – অর্থ – নিরাপদ
- আনিসা – অর্থ – কুমারী
- আদিবা – অর্থ – মহিলা সাহিত্যিক
- অনীফা – অর্থ – রূপসী
- আসমা – অর্থ – সত্যবাদী
- আসওয়া – অর্থ – আলো
- অনতারা – অর্থ – বীরাঙ্গনা
- আদিলা – অর্থ – ন্যায় বিচারক মহিলা
- তাসনিয়া – অর্থ – সহজসাধ্যকরণ
- তাসনীম – অর্থ – জান্নাতের এক ঝর্ণা
- তাসমিয়া – অর্থ – নামকরণ
- তাসিয়া – অর্থ – সাস্ত্বনা
- তাহনিয়া – অর্থ – অভিনন্দন
- তাহমিদা – অর্থ – প্রশংসিত
- মাসুমা – অর্থ – নিষ্পাপ
- সাইদা – অর্থ – পুণ্যবতী
- আকিরা – অর্থ – সুগন্ধিময়
- হুমায়রা – অর্থ – সুন্দরী
- হুমায়রা জেসমিন – অর্থ – সুন্দরী ফুল
- হুমায়রা নাবিলা – অর্থ – সুন্দরী ভদ্র
- হুমায়রা তাসনিম – অর্থ -সুন্দরী বেহেস্তে ঝর্ণা
- হুমায়রা তাসনিয়া – অর্থ – প্রশংসিত সুন্দরী
- হামিমা তাহমিনা – অর্থ – মূল্যবান বান্ধবী
- হুসনা – অর্থ -সুনাম
- হাকীমা – অর্থ – বুদ্ধিমতী
- হাসনা – অর্থ – পূর্ণবতী নারী
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মহিলাদের নাম
ইসলামের সবচেয়ে প্রিয় নারীদের নামগুলো মূলত ঐশ্বরিক গুণাবলীর প্রতিফলন, যা মুমিনদের হৃদয়ে এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। ফাতিমা, আয়েশা এবং মরিয়মের মতো পবিত্র নামগুলো কেবল নাম নয়, বরং এগুলো সততা, প্রজ্ঞা এবং গভীর ভক্তির অনন্য প্রতীক।
এই নামগুলোর সাথে মিশে আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং ইসলামী ঐতিহ্যের লালিত আদর্শ। নিজের কন্যাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে এসব নামে ভূষিত করার মাধ্যমে মূলত আল্লাহর কাছে প্রিয় মহৎ গুণগুলোকেই স্মরণ করা হয়। ইসলামে আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিছু চমৎকার নাম নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ফাতিমাহ (ফাতেমা):
ইসলামে নবী মুহাম্মদের প্রিয় কন্যা ফাতিমা এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী, যার নামের অর্থ হলো “উজ্জ্বল এক”। তিনি পবিত্রতা ও গুণের এক অনন্য প্রতীক, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তার অটল ভক্তি এবং ধৈর্য আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জোগায়। মূলত ফাতিমা নামটি যেন ঐশ্বরিক করুণারই এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
২. আয়েশা (আয়েশা):
আয়েশা নামের অর্থ হলো “জীবন্ত” বা “জীবিত”, যিনি তার প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মহানবীর অন্যতম স্ত্রী হিসেবে তার নামটি জীবনীশক্তি ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতীক। ইসলাম সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং নবীর শিক্ষাগুলো সংরক্ষণে তার অসামান্য অবদান তাকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে।
৩. মরিয়ম (মেরি):
হযরত ঈসা (আ.)-এর মা মরিয়ম ইসলামে এক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আসীন। তার নামের অর্থ “প্রিয়” বা “সমুদ্রের ফোঁটা”, যা মূলত বিশুদ্ধতা ও ভক্তির পরিচায়ক। ঈসার অলৌকিক জন্মসহ মরিয়মের অনুকরণীয় জীবন তার নামটিকে ঐশ্বরিক অনুগ্রহের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
৪. খাদিজাহ (খাদিজা):
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) তাঁর অসামান্য শক্তি এবং গভীর বিশ্বাসের জন্য আজীবন স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর নামের অর্থের মধ্যেই যেন এক ধরণের মহত্ত্ব আর বিশ্বস্ততা লুকিয়ে আছে, যা তাঁর উন্নত চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায়। ইসলামের শুরুর দিনগুলোতে নবীর প্রতি তাঁর যে অটল সমর্থন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তা তাঁকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে।
৫. আসিয়াহ (এশিয়া):
ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ছিলেন একজন অত্যন্ত ধার্মিক ও বিশ্বাসী নারী, যিনি ধৈর্য এবং বিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নামের অর্থ যিনি নিজেকে সংযত করেন অথবা যিনি মন্দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে তাঁর অটল পাহাড়সম দৃঢ়তাকেই ফুটিয়ে তোলে। আল্লাহর প্রতি আসিয়ার এই অবিচল প্রতিশ্রুতি ও আনুগত্য ইসলামি ইতিহাসে তাঁর নামকে চিরস্মরণীয় এবং মহিমান্বিত করে রেখেছে।
৬. জয়নাব (জয়নব):
জয়নব, যাঁর নামের অর্থ “সুশোভিত” বা “সৌন্দর্য”, তিনি তাঁর বাগ্মিতা এবং অসীম সাহসিকতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। আলী (রা.) এবং ফাতিমা (রা.)-এর কন্যা হিসেবে তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও মর্যাদার সাথে জীবনের কঠিন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। বিশেষ করে কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনার সময় তাঁর প্রদর্শিত বীরত্ব এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার অঙ্গীকার তাঁকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও মহিমান্বিত করে তুলেছে।
৭. হাফসা (হাফসা):
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম স্ত্রী হাফসা (রা.)-এর নামের অর্থ “সমাবেশ” বা “অভিভাবক”, যা ঐশ্বরিক প্রত্যাদেশ সংরক্ষণে তাঁর বিশেষ ভূমিকারই প্রতিফলন ঘটায়। পবিত্র কুরআন সযত্নে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। ইসলামের শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর একাগ্রতা এবং দায়িত্ববোধ হাফসা (রা.)-এর নামকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছে।
৮. সুমাইয়া (সুমিয়া):
ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া (রা.) হলেন বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর নামের অর্থ “বিশুদ্ধ” বা “উৎকৃষ্ট”, যা আল্লাহর প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্যের পরিচয় দেয়। চরম নিপীড়নের মুখেও তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা তাঁর নামকে এক বিশেষ মর্যাদায় সিক্ত করেছে এবং বিশ্বাসের শক্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এই প্রতিটি নামই ইসলামের ইতিহাসের সাথে গভীর তাৎপর্য বহন করে এবং বিশুদ্ধতা, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও ভক্তির মতো গুণাবলীকে ধারণ করে। এই গুণগুলো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং সারাবিশ্বের মুসলমানদের কাছে গভীরভাবে সমাদৃত।
লেখকের শেষকথা
আশা করি যারা আল্লাহর পছন্দনীয় অর্থবহ নাম অনুযায়ী নিজেদের কন্যা শিশুর নাম রাখতে চান, তাঁরা উপরের তালিকা থেকে সাহায্য নিতে পেরেছেন। তবে সন্তানের নাম চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম বা ধর্মীয় বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উত্তম।
যেহেতু একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম পাওয়া শিশুর অধিকার, তাই সবসময় ভালো অর্থ দেখেই নাম নির্বাচন করুন। এখান থেকে কোনো নাম আপনার পছন্দ হলে সেটির বৈশিষ্ট্য বা অন্যান্য দিক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ইন্টারনেটে আলাদাভাবে অনুসন্ধান করে দেখে নিতে পারেন।
