আল্লাহর ৯৯ নাম আরবি

সৃষ্টিজগতের প্রতিটি ধূলিকণা থেকে শুরু করে বিশাল আসমান সবই তাঁর অস্তিত্বের জানান দেয়। তিনি আল্লাহ, যিনি পরম করুণাময় এবং অসীম দয়ালু। একজন মুমিনের কাছে আল্লাহর পরিচয় জানার সবচাইতে উত্তম মাধ্যম হলো তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ বা ‘আসমাউল হুসনা’।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সব সুন্দর নাম। অতএব, তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।’ (সূরা আরাফ: ১৮০)। আল্লাহর ৯৯টি নামের প্রতিটি নামের গভীরে লুকিয়ে আছে অসীম ক্ষমতা, রহমত এবং হেদায়েতের সমুদ্র।

পাঠকদের সুবিধার্থে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আল্লাহর ৯৯ নাম আরবি ও বাংলা অর্থসহ বিস্তারিতভাবে সাজিয়েছি।

আল্লাহর ৯৯ নাম আরবি ও বাংলা অর্থ সহ

ইসলামি আকীদা ও ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ তাআলার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। আর এই বিশ্বাস ততক্ষণ পূর্ণতা পায় না, যতক্ষণ না আমরা আমাদের স্রষ্টাকে তাঁর গুণবাচক নামের মাধ্যমে চিনতে পারি।

হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর এই ৯৯টি নাম মুখস্থ রাখবে এবং তা হৃদয়ে ধারণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দুআ কবুলের জন্য এই নামগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

আরো দেখুনঃ আব্দুল্লাহ নামের অর্থ কি? (ইসলামিক, আরবি বাংলা)

আল্লাহর ৯৯টি নাম অর্থসহ তুলে নিচে ধরা হলোঃ

১. الله (আল্লাহ) — অর্থ: আল্লাহ, প্রভু।

২. الرَّحْمَنُ (আর-রাহমানু) — অর্থ: অসীম দয়ালু, পরম করুণাময়, কল্যাণময়।

৩. الرَّحِيمُ (আর-রাহীমু) — অর্থ: সবচাইতে ক্ষমাশীল।

৪. الْمَلِكُ (আল-মালিকু) — অর্থ: অধিপতি।

৫. الْقُدُّوسُ (আল-কুদ্দুস) — অর্থ: পূতপবিত্র, নিখুঁত।

৬. السَّلَامُ (আস-সালামু) — অর্থ: শান্তি এবং নিরাপত্তার উৎস, ত্রাণকর্তা।

৭. الْمُؤْمِنُ (আল-মু’মিনু) — অর্থ: জামিনদার, সত্য ঘোষণাকারী।

৮. الْمُهَيْمِنُ (আল-মুহাইমিনু) — অর্থ: অভিভাবক, প্রতিপালক।

৯. الْعَزِيزُ (আল-আজীজু) — অর্থ: সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে সম্মানিত।

১০. الْجَبَّارُ (আল-জাব্বারু) — অর্থ: দুর্নিবার, সমু”চ, মহিমান্বিত।

১১. الْخَالِقُ (আল-খালিকু) — অর্থ: সৃষ্টিকর্তা।

১২. الْبَارِئُ (আল বারি’উ) — অর্থ: বিবর্ধনকারী, নির্মাণকর্তা, পরিকল্পনাকারী।

১৩. الْمُصَوِّرُ (আল মুছাওয়ি’রু) — অর্থ: আকৃতিদানকারী।

১৪. الْغَفَّارُ (আল-গাফ্ফারু) — অর্থ: পুনঃমার্জনাকারী।

১৫. الْقَهَّارُ (আল-কাহ্হারু) — অর্থ: দমনকারী।

১৬. الْوَهَّابُ (আল-ওয়াহ্হাবু) — অর্থ: সবকিছুর দাতা

১৭. الرَّزَّاقُ (আর-রাজ্জাকু) — অর্থ: রিজিকদাতা।

১৮. الْفَتَّاحُ (আল-ফাত্তাহু) — অর্থ: প্রারম্ভকারী, বিজয়দানকারী।

১৯. الْعَلِيمُ (আল-আলীমু) — অর্থ: সর্বজ্ঞানী, সর্বদর্শী।

২০. الْقَابِضُ (আল-কাবিযু) — অর্থ: নিয়ন্ত্রণকারী, সরলপথ প্রদর্শনকারী।

২১. الْبَاسِطُ (আল-বাসিতু) — অর্থ: প্রসারণকারী।

২২. الْخَافِضُ (আল-খাফিযু) — অর্থ: অবনতকারী।

২৩. الرَّافِعُ (আর-রাফি’উ) — অর্থ: উন্নীতকারী।

২৪. الْمُعِزُّ (আল-মু’ইজ্জু) — অর্থ: সম্মানপ্রদানকারী।

২৫. الْمُذِلُّ (আল-মুযিল্লু) — অর্থ: সম্মানহরণকারী।

২৬. السَّمِيعُ (আস-সামী’উ) — অর্থ: সর্বশ্রোতা।

২৭. الْبَصِيرُ (আল-বাছিরু) — অর্থ: সর্বদ্রষ্টা।

২৮. الْحَكَمُ (আল-হাকামু) — অর্থ: বিচারপতি।

২৯. الْعَدْلُ (আল-আদলু) — অর্থ: পরিপূর্ণ ইনসাফকারী।

৩০. اللَّطِيفُ (আল-লাতীফু) — অর্থ: পরম স্নেহশীল, সূক্ষ্মদর্শী।

৩১. الْخَبِيرُ (আল-খাবিরু) — অর্থ: সম্যক অবগত।

৩২. الْحَلِيمُ (আল-হালিমু) — অর্থ: ধৈর্যবান, প্রশ্রয়দাতা।

৩৩. الْعَظِيمُ (আল-‘আযিমু) অর্থ: সুমহান।

৩৪. الْغَفُورُ (আল-গাফুরু) অর্থ: মার্জনাকারী।

See also  আরিয়ান নামের অর্থ কি? (আরবি, বাংলা, ইসলামিক, ফারসি অর্থ জানুন)

৩৫. الشَّكُورُ (আশ-শাকুরু) অর্থ: সুবিবেচক।

৩৬. الْعَلِيُّ (আল-আলিয়্যু) অর্থ: মহীয়ান।

৩৭. الْكَبِيرُ (আল-কাবীরু) অর্থ: সুমহান।

৩৮. الْحَفِيظُ (আল-হাফিযু) — অর্থ: সংরক্ষণকারী।

৩৯. الْمُقِيتُ (আল-মুকিতু) — অর্থ: লালনপালনকারী।

৪০. الْحَسِيبُ (আল হাসীবু) — অর্থ: মীমাংসাকারী।

৪১. الْجَلِيلُ (আল জালীলু) — অর্থ: গৌরবান্বিত।

৪২. الْكَرِيمُ (আল-কারিমু) — অর্থ: উদার, অকৃপণ।

৪৩. الرَّقِيبُ (আল-রাকীবু) — অর্থ: সদা জাগ্রত, অতন্দ্র পর্যবেক্ষণকারী।

৪৪. الْمُجِيبُ (আল-মুজীবু) — অর্থ: মহা গৌরবমন্ডিত।

৪৫. الْوَاسِعُ (আল-ওয়াসি’উ) — অর্থ: প্রশস্ততার অধিকারী

৪৬. الْحَكِيمُ (আল-হাকীমু) — অর্থ: সুবিজ্ঞ, সুদক্ষ।

৪৭. الْوَدُودُ (আল-ওয়াদুদু) — অর্থ: স্নেহশীল।

৪৮. الْمَجِيدُ (আল-মাজীদু) — অর্থ: মহিমান্বিত।

৪৯. الْبَاعِثُ (আল-বাইছু) — অর্থ: পুনরুত্থানকারী।

৫০. الشَّهِيدُ (আশ-শাহীদু) — অর্থ: সাক্ষ্যদানকারী।

৫১. الْحَقُّ (আল-হাক্ক) — অর্থ: প্রকৃত সত্য।

৫২. الْوَكِيلُ (আল-ওয়াকীলু) — অর্থ: মহান কার্য সম্পাদনকারী।

৫৩. الْقَوِيُّ (আল-কাবিয়্যু) — অর্থ: ক্ষমতাশালী।

৫৪. الْمَتِينُ (আল-মাতিনু) — অর্থ: সুদৃঢ়।

৫৫. الْوَلِيُّ (আল-অলীয়্যু) — অর্থ: বন্ধু, সাহায্যকারী, শুভাকাক্সক্ষী।

৫৬. الْحَمِيدُ (আল-হামীদু) — অর্থ: সকল প্রশংসার দাবীদার, প্রশংসনীয়।

৫৭. الْمُحْصِي (আল-মুহ্ছী) — অর্থ: বর্ণনাকারী, গণনাকারী।

৫৮. الْمُبْدِئُ (আল-মুবদি’উ) — অর্থ: অগ্রণী, প্রথম প্রবর্তক, সৃজনকর্তা।

৫৯. الْمُعِيدُ (আল-মুঈদু) — অর্থ : পুন:প্রতিষ্ঠাকারী, পুনরূদ্ধারকারি।

৬০. الْمُحْيِي (আল-মুহ্য়ী) — অর্থ : জীবনদানকারী।

৬১. الْمُمِيتُ (আল-মুমীতু) — অর্থ : মৃত্যুদানকারী।

৬২. الْحَيُّ (আল-হাইয়্যু) — অর্থ : চিরজীবন্ত।

৬৩. الْقَيُّومُ (আল-কাইয়ুম) — অর্থ : অভিভাবক, জীবিকানির্বাহ প্রদানকারী।

৬৪. الْوَاجِدُ (আল-ওয়াজিদু) — অর্থ : পর্যবেক্ষক, চির¯’ায়ী।

৬৫. الْمَاجِدُ (আল-মাজিদু) — অর্থ : সুপ্রসিদ্ধ।

৬৬. الْوَاحِدُ (আল-ওয়াহেদুল আহাদু) —অর্থ : এক, অনন্য, অদ্বিতীয়।

৬৭. الصَّمَدُ (আস-সামাদু) — অর্থ : অমুখাপেক্ষী।

৬৮. الْقَادِرُ (আল-কাদিরু) — অর্থ : সর্বশক্তিমান।

৬৯. الْمُقْتَدِرُ (আল-মুকতাদিরু) — অর্থ : প্রভাবশালী, সিদ্ধান্তগ্রহণকারী।

৭০. الْمُقَدِّمُ (আল-মুকাদ্দিমু) — অর্থ : অগ্রগতিতে সহায়তা প্রদানকারী।

৭১. الْمُؤَخِّرُ (আল-মু’আখ্খিরু) — অর্থ : বিলম্বকারী।

৭২. الْأَوَّلُ (আল-আউয়ালু) — অর্থ : সর্বপ্রথম।

৭৩ الْآخِرُ (আল-আখিরু) — অর্থ : সর্বশেষ।

৭৪. الظَّاهِرُ (আজ-জাহিরু) — অর্থ : সুস্পষ্ট, সুপ্রতীয়মান।

৭৫. الْبَاطِنُ (আল-বাতিনু) — অর্থ : লুকায়িত, অস্পষ্ট, অন্তর¯’ (যা কিছু দেখা যায় না)।

৭৬. الْوَالِيَ (আল-ওয়ালিউ) — অর্থ : অভিভাবক।

৭৭. الْمُتَعَالِي (আল-মুতা’আলী)। — অর্থ : সবচেয়ে বুলন্দ ও উচ্চ।

৭৮. الْبَرُّ (আল-বাররু) — অর্থ : কল্যাণকারী।

৭৯. التَّوَّابُ (আত-তাওয়াবু) — অর্থ : অধিক তওবা গ্রহণকারী।

৮০. الْمُنْتَقِمُ (আল-মুনতাকিমু) — অর্থ : প্রতিফল প্রদানকারী।

৮১. الْعَفُوُّ (আল-আফুও) — অর্থ : শাস্তি মউকুফকারী, গুনাহ ক্ষমাকারী।

৮২. الرَّءُوفُ (আল-রা’ফুউ) — অর্থ : সদয়, সমবেদনা প্রকাশকারী।

৮৩. مَالِكُ الْمُلْكِ (মালিকুল মুলক) — অর্থ : সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।

৮৪. ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ (যুল জালালি ওয়াল ইকরাম) — অর্থ : মর্যাদা ও ঔদার্যের প্রভু।

৮৫. الْمُقْسِطُ (আল-মুকসিতু) — অর্থ : ন্যায়পরায়ণ, প্রতিদানকারী।

৮৬. الْجَامِعُ (আল-জামি’উ) — অর্থ : একত্র আনয়নকারী, ঐক্য সাধনকারী।

৮৭. الْغَنِيُّ (আল-গানিয়্যু) — অর্থ : ঐশ্বর্যবান, স্বতন্ত্র।

৮৮. الْمُغْنِي (আল-মুগনী) — অর্থ : সমৃদ্ধকারী, উদ্ধারকারী।

৮৯. الْمَانِعُ (আল-মানি’উ) — অর্থ : প্রতিরোধকারী, রক্ষাকর্তা।

৯০. الضَّارُّ (আদ-র্দারু) — অর্থ : যন্ত্রণাদানকারী, উৎপীড়নকারী।

৯১. النَّافِعُ (আন নাফিই) — অর্থ : কল্যাণকারী।

৯২. النُّورُ (আন নূর) — অর্থ : আলোক।

৯৩. الْهَادِي (আল-হাদী) — অর্থ : পথপ্রদর্শক।

৯৪. الْبَدِيعُ (আল-বাদীই) — অর্থ : অতুলনীয়, অনিধগম্য।

৯৫. الْبَاقِي (আল বাক্বী) — অর্থ : অপরিবর্তনীয়, অনন্ত, অসীম, অক্ষয়।

See also  আব্দুল্লাহ নামের অর্থ কি? (ইসলামিক, আরবি বাংলা) Abdullah name meaning

৯৬. الْوَارِثُ (আল ওয়ারিস) — অর্থ : সবকিছুর উত্তরাধিকারী।

৯৭. الرَّشِيدُ (আর রাশীদ) — অর্থ : সঠিক পথের নির্দেশক।

৯৮. الصَّبُورُ (আস সাবুর) — অর্থ : ধৈর্যশীল।

৯৯. الْمُتَكَبِّرُ (আল-মুতাকাব্বির) — অর্থ : সর্বশ্রেষ্ঠ, গৌরবান্বিত।

👉 আল আসমাউল হুসনা PDF বই ডাউনলোড

আল আসমাউল হুসনা PDF (Al Asmaul Husna) বইটি আহমদ তাম্মাম, সামীর হালবী, সালামাহ মুহাম্মাদ এর লেখা। বইটি আমরা অনলাইন (book.tauhiderdak.com) থেকে সংগ্রহ করেছি।

আল্লাহর ৯৯ নাম বাংলা অর্থ সহ ছবি

আল্লাহর ৯৯ নামের গুরুত্ব

আল্লাহর ৯৯টি নামের ফজিলত সত্যিই অপরিসীম। “আল্লাহ” শব্দটি যখন আমরা উচ্চারণ করি, তখনই মনের ভেতরে এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভূত হয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে এবং তিনি নিজেই আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা এই নামগুলোর উসিলা নিয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা করি।

আসলে ইমানের যে মূল ভিত্তি বা স্তম্ভগুলো আছে, তার মধ্যে আল্লাহর এই পবিত্র নাম ও গুণাবলির ওপর বিশ্বাস রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, ইমানের পূর্ণতার জন্য আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস রাখা, তাঁকে একমাত্র রব ও প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়া এবং তিনি যে আমাদের একমাত্র স্রষ্টা—এই সত্যটি হৃদয়ে লালন করা জরুরি। তাই আমাদের উচিত তাঁরই ইবাদত করা এবং এই গুণবাচক নামগুলোর মাধ্যমে তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করা।

তাওহীদের তিনটি প্রকারের মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহ তা’আলার নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা। মূলত তাওহীদ তিন প্রকার: তাওহিদুর রুবুইয়্যাহ বা প্রভুত্বের একত্ব, তাওহিদুর উলুহিয়্যাহ বা ইবাদতের ক্ষেত্রে একত্ব এবং তাওহিদুর আসমা-ওয়াস-সিফাত অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলির একত্ব। ইসলামের এই শেষোক্ত ভাগের গুরুত্ব অনেক বেশি।

মানুষ তার জীবনে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এসব কঠিন সময়ে আল্লাহর রহমতের আশ্রয় খুঁজে পেতে হলে তাঁর গুণবাচক নামগুলোর তাৎপর্য বোঝা জরুরি। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক এবং পূর্ণ জ্ঞান না থাকলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে প্রকৃত মুমিন হওয়া বা সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদত করা সম্ভব নয়।

আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নাম মুখস্থ করা এবং নিয়মিত পাঠ করার ফজিলত অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে এই নামগুলো মুখস্থ রাখবে এবং সর্বদা এগুলো স্মরণ ও চর্চা করবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই পবিত্র নামগুলো শিখে তা নিজের জীবনে আমল করা।

আল্লাহর ৯৯ নামের ফযিলত

আল্লাহর ৯৯টি নাম বা ‘আসমাউল হুসনা’ কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এগুলো হলো মহান রবের অসীম ক্ষমতা, মমতা ও গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ। একজন মানুষের জীবনে এই নামগুলোর ফযিলত ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, তবুও ইসলামের আলোকে এর গভীরতা আমরা বুঝতে পারি নিচের কয়েকটি পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে:

১. জান্নাত লাভের উপায়

আল্লাহর ৯৯টি নামের সবচেয়ে বড় ফযিলত হলো জান্নাত লাভ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে এক কম ১০০টি। যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে (অর্থাৎ মুখস্থ করবে, অর্থ বুঝবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সহীহ বুখারী)

See also  অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক - Online পল্লী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ পদ্ধতি ২০২৫

২. দোয়া কবুলের মাধ্যম

আমরা যখন কোনো বিপদে পড়ি বা কিছু চাই, তখন আল্লাহর নির্দিষ্ট গুণবাচক নামে তাঁকে ডাকলে দোয়া দ্রুত কবুল হয়। যেমন, রিযিকের জন্য ‘ইয়া রাজ্জাকু’, ক্ষমার জন্য ‘ইয়া গাফফারু’ বা দয়ার জন্য ‘ইয়া আর-রাহমানু’ বলে ডাকা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন:

আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব সুন্দর নাম। অতএব, তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।” (সূরা আরাফ: ১৮০)

৩. আল্লাহর সাথে গভীর পরিচয় ও মহব্বত

আপনি যাকে চেনেন না, তাকে ভালোবাসা কঠিন। আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো আমাদের জানায় তিনি কত বড় দয়ালু, কত শক্তিশালী এবং তিনি আমাদের কত নিকটে। যখন কেউ জানে আল্লাহ ‘আস-সামিউ’ (সবকিছু শোনেন) এবং ‘আল-বাসিরু’ (সবকিছু দেখেন), তখন তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা তৈরি হয়, যা তাকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে।

৪. মানসিক প্রশান্তি ও দুশ্চিন্তা মুক্তি

মানুষের জীবন নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নামগুলো জিকির করে, তখন তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসে। যেমন, ‘আল-ওয়াকিলু’ (পরম নির্ভরযোগ্য কর্মবিধায়ক) নামটি স্মরণ করলে মানুষ বুঝতে পারে যে তার সব দায়িত্ব আল্লাহর হাতে, ফলে তার টেনশন কমে যায়।

৫. ইমানের পূর্ণতা ও আমলের সংশোধন

আল্লাহর নামগুলোর অর্থ জানলে মানুষের আচরণে পরিবর্তন আসে। যেমন:

  • আল-হালিমু (অত্যন্ত ধৈর্যশীল): এই নামটির অর্থ জানলে মানুষ নিজেও অন্যের প্রতি ধৈর্যশীল হতে শেখে।
  • আল-কারিমু (মহা দাতা): এটি মানুষকে দানশীল হতে উৎসাহিত করে। এভাবে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে।

৬. শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি

যে অন্তরে আল্লাহর জিকির এবং তাঁর পবিত্র নামের বসবাস থাকে, সেখানে শয়তান বাসা বাঁধতে পারে না। নিয়মিত আসমাউল হুসনা পাঠ করলে অন্তর পবিত্র হয় এবং কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়।

আল্লাহর ৯৯ নাম মুখস্ত করার সহজ উপায় 

আল্লাহর সকল নামের মধ্যে ‘আল্লাহ’ নামটি সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। এছাড়া তিরমিযি শরীফে বর্ণিত বাকি নামগুলো অর্থসহ নিচে তুলে ধরা হলো। আমরা আমাদের সুবিধামতো সময়ে এবং সহজ উপায়ে এই সুন্দর নামগুলো মনে রাখার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস্থ করার সহজ কিছু উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

  • আপনার সুবিধামতো প্রতিদিন কমপক্ষে ৩টি করে নাম পড়ে প্রায় এক মাসে, ৫টি করে নাম পড়ে ২০ দিনে অথবা ১০টি করে নাম পড়ে মাত্র ১০ দিনেই মুখস্থ করে ফেলতে পারেন।
  • প্রতিদিন আল্লাহর ৯৯ নামের অডিও শুনুন, এতে শুনতে শুনতেই নামগুলো দ্রুত মুখস্থ হয়ে যাবে।
  • প্রতি নামাজের পর জিকির হিসেবে আল্লাহর নামগুলো পড়ার অভ্যাস করুন।
  • চলাফেরা বা কাজের ফাঁকে সব সময় মুখস্থ করা নামগুলো মনে মনে রিভিশন দিন।
  • সহজে পড়ার জন্য প্লে-স্টোর থেকে আল্লাহর ৯৯ নামের একটি অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন, এতে যখনই মন চায় দেখে নিতে পারবেন।

লেখকের শেষকথা

আল্লাহর ৯৯টি নাম কেবল মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং এই নামগুলোর অর্থ ও মাহাত্ম্য নিজের জীবনে ধারণ করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত বরকতময়। মহান আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো জিকির ও স্মরণের মাধ্যমে আমাদের মন প্রশান্ত হয় এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

আশা করি, আজকের এই ব্লগ পোস্টটি আপনাকে আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো শিখতে এবং আমল করতে সাহায্য করবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর এই পবিত্র নামগুলোর উসিলায় পরকালে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *