বর্তমান সময়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে যে দেশগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। উন্নত জীবনযাত্রা, চমৎকার কাজের পরিবেশ এবং আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর কারণে অনেক বাংলাদেশী কর্মী এখন সাইপ্রাসকে তাদের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
তবে দেশটিতে পাড়ি জমানোর আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে যে ২০২৬ সালে সাইপ্রাসে সর্বনিম্ন বেতন কত? এবং বাংলাদেশ থেকে সাইপ্রাস যেতে কত টাকা খরচ হয়? আজকের এই ব্লগে আমরা সাইপ্রাসের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বেতন কাঠামো এবং বর্তমান খরচ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সাইপ্রাস বেতন কত ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাস যেতে আগ্রহীদের সাইপ্রাস বেতন কত জানতে হয়। তুর্কি সাইপ্রাস তথা নর্থ সাইপ্রাস এবং গ্রিক সাইপ্রাস তথা সাউথ সাইপ্রাস হিসেবে পরিচিত। আসুন গ্রিক সাইপ্রাস এবং তুর্কি সাইপ্রাস বেতন কত তা জেনে নেই।
১. গ্রিক সাইপ্রাস বেতন কত?
ইউরোপ মহাদেশের অংশ গ্রিক সাইপ্রাস একটি নন-সেনজেন (Non-Schengen) দেশ, যেখানে কাজের বেতন সাধারণত তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে। গ্রিক সাইপ্রাসে কাজের বেতন মূলত কাজের ক্যাটাগরি এবং কর্মীর দক্ষতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়।
বর্তমানে গ্রিক সাইপ্রাসে কাজের বেতন প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই দেশের সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ১,০০০ ইউরো। কর্মীদের মজুরি সাধারণত প্রতি ঘন্টা অনুযায়ী হিসাব করা হয়।
এই দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসীরা সাধারণত প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে থাকেন। এটা মনে রাখা জরুরি যে, আপনার কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যত বেশি থাকবে, আপনি তত ভালো বেতন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
২. তুর্কি সাইপ্রাস বেতন কত?
তুর্কি সাইপ্রাস, যা উত্তর সাইপ্রাস হিসেবেও পরিচিত, সেখানে কাজের বেতন মূলত কাজের ক্যাটাগরি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে, এটি মনে রাখা জরুরি যে গ্রিক সাইপ্রাসের তুলনায় উত্তর সাইপ্রাসে বেতন সাধারণত কম হয়ে থাকে।
বর্তমানে তুর্কি সাইপ্রাসে কাজের বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই দেশে প্রবাসীরা সাধারণত দক্ষতা নির্ভর কাজগুলো করে থাকেন।
যদি আপনি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে তুর্কি সাইপ্রাসে যান, তাহলে কাজের ন্যূনতম বেতন হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পাবেন। বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা নিয়ে সাইপ্রাস যেতে আগ্রহীদের জন্য সাইপ্রাসে বেতনের হার সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা রাখা খুবই দরকার।
আরো জানুনঃ আর্মেনিয়া বেতন কত ও যেতে কত টাকা খরচ হয়

সাইপ্রাস শ্রমিকদের বেতন কত
বর্তমানে অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে সাইপ্রাসে যাচ্ছেন। এই দেশে অভিজ্ঞ শ্রমিকদের জন্য বর্তমানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা এই প্রবণতা বাড়িয়েছে।
সাইপ্রাসে একজন শ্রমিকের জন্য বেতন সাধারণত ৪৫০ ইউরো থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশী টাকায় এই পরিমাণটি প্রায় ৫৭ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকার মধ্যে আসে।
এই বেতন কাঠামো এবং কাজের সুযোগের কারণেই শ্রমিকরা সাইপ্রাসে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে আগ্রহী হচ্ছেন।
সাইপ্রাস কোন কাজের বেতন বেশি
সাইপ্রাসে যদিও বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে, তবে কিছু নির্দিষ্ট কাজের চাহিদা এবং বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি। আপনি যদি চাহিদা সম্পন্ন কাজের জন্য আপনার দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে আপনি সেখানে ভালো আয় করতে সক্ষম হবেন।
বিশেষ করে, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন চাকরিগুলোতে বেতন সাধারণত সবচেয়ে বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য মাসিক বেতন সাধারণত ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া কাজগুলোর মধ্যেও ভালো বেতন পাওয়ার সুযোগ আছে। যেমন বিভিন্ন কোম্পানির চাকরি এবং মালিকানাধীন কাজগুলোর বেতনও বেশ ভালো হতে পারে। সবমিলিয়ে, সাইপ্রাসে প্রাপ্ত বেতনের পরিমাণ মূলত কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপক ভিন্নতা দেখায়।
সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে?
সাইপ্রাস হলো একটি ইউরোপীয় দ্বীপ রাষ্ট্র, যা কাজের সুযোগ এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মানের কারণে প্রবাসীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে থাকে। যারা এই দেশে যেতে আগ্রহী, তাদের অবশ্যই সাইপ্রাস যেতে মোট কত টাকা লাগে সে সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা রাখা প্রয়োজন।
সাইপ্রাসে যেতে হলে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করা থেকে নিয়ে দেশটিতে বসবাসের প্রস্তুতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একটি সঠিক পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক। বিভিন্ন ধরনের ভিসা নিয়ে ইউরোপের এই দেশে যাওয়া যায়।
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের এই দেশে যেতে চাইলে, সেই সকল প্রক্রিয়া ও ধাপ অনুযায়ী সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে, তা স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. তুর্কি সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে?
তুর্কি সাইপ্রাস, যা উত্তর সাইপ্রাস নামেও পরিচিত, কাজের ভিসা নিয়ে যেতে চাইলে অবশ্যই ভিসা সংক্রান্ত খরচ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। যেহেতু এই দেশে সরকারিভাবে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তাই বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা নিয়ে তুর্কি সাইপ্রাসে যেতে হলে প্রায় ৫ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মূলত বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং করার কারণেই এই খরচ বেশি হয়। তবে, যদি কেউ নিজে নিজে ভিসা প্রসেসিং করে, তবে কেবল দাপ্তরিক খরচটুকুই লাগবে।
২. গ্রিক সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে?
গ্রিক সাইপ্রাস ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত একটি অংশ হওয়ায়, কাজের ভিসার জন্য এর খরচ তুর্কি সাইপ্রাসের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে এর একটি কারণ হলো, এই দেশে কাজের বেতনও সাধারণত বেশি হয়ে থাকে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে গ্রিক সাইপ্রাসে যাওয়া আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। সাধারণত, বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং করলে খরচ বেশি হয়, তাই খরচ কমাতে অনেকেই নিজে নিজে ভিসা প্রসেসিং করার চেষ্টা করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে গ্রিক সাইপ্রাসে যেতে ইচ্ছুকদের আনুমানিক ৬ লাখ টাকা থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে, যদি কোনো পরিচিত বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে যাওয়া যায়, তবে ভিসা খরচ কিছুটা কম হতে পারে।
তুর্কিতে জীবনযাত্রার খরচ কত
নিঃসন্দেহে, তুর্কি সাইপ্রাসে জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি বসবাসের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। তবে, এই অঞ্চলে খরচ শহরভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষত, রাজধানী নিকোশিয়ায় জীবনধারণের খরচ অন্যান্য ছোট শহরের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি।
- আবাসন: আবাসন খরচ আপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে। একটি একক-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রায় ৫০০ TRY হতে পারে। অন্যদিকে, একটি তিন-বেডরুমের তুলনামূলক বড় অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আপনাকে মাসিক ১,০০০ TRY বা তার বেশি খরচ করতে হতে পারে।
- খাদ্য: খাবারের খরচ আপনার ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস এবং আপনি বাড়িতে রান্না করেন নাকি বাইরে খান, তার ওপর নির্ভর করে। তবে, একজন ব্যক্তির জন্য মাসিক গড় খাদ্য ব্যয় প্রায় ৪০০ TRY-এর আশেপাশে থাকতে পারে।
- পরিবহন: স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা যেমন বাস এবং ট্যাক্সি ব্যবহার করা এখানে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। মাসিক পরিবহনের জন্য একজন ব্যক্তির গড় খরচ প্রায় ২০০ TRY হতে পারে।
- ইউটিলিটি: বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য পরিষেবার মতো ইউটিলিটি বিলের জন্য গড় মাসিক খরচ প্রায় ১৫০ TRY রাখা যেতে পারে।
তুর্কি সাইপ্রাসে জীবনযাত্রার সামগ্রিক খরচ মোটামুটিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সাইপ্রাস যাওয়ার উপায়
বাংলাদেশ থেকে সাইপ্রাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি ভিন্ন অংশ রয়েছে: উত্তর সাইপ্রাস (তুর্কি সাইপ্রাস) এবং গ্রিক সাইপ্রাস। এই দুটি গন্তব্যে ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা, এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা।
এই দুটি সাইপ্রাসে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে যান। সাইপ্রাসে বৈধভাবে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক ভিসা বাধ্যতামূলক। এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে নিকটস্থ সাইপ্রাস দূতাবাসের মাধ্যমে তার আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
কাজের সন্ধান এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশ্বস্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। সাইপ্রাস যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নিয়োগকর্তার সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিপত্র নিশ্চিত করা। এই চুক্তিপত্রে আপনার বেতন, কাজের সময়, ওভারটাইম সুবিধা এবং কাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
ওয়ার্ক ভিসা ছাড়াও, বাংলাদেশ থেকে পর্যটন বা উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে টুরিস্ট ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ইউরোপের এই দেশে সহজে যাওয়া সম্ভব। সাধারণভাবে, এই দেশে কাজের ভিসার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে এবং ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশি থাকে।
সাইপ্রাস যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে
তুর্কি সাইপ্রাসে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মূলত আপনি যে ভিসার ক্যাটাগরিতে আবেদন করছেন, তার ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা বা ওয়ার্ক ভিসার জন্য নথিপত্র ভিন্ন হতে পারে।
তবে, ভিসার ধরন যেমনই হোক না কেন, বেশিরভাগ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ কাগজপত্র প্রায় একই থাকে এবং এগুলো বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে:
- বৈধ পাসপোর্ট
- ভিসা আবেদন ফরম
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- চাকরির অফার লেটার
- কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট
- ভিসা আবেদন ফি
- জাতীয় পরিচয় পত্র
- আইইএলটিএস স্কোর
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট)
- মেডিকেল রিপোর্ট সার্টিফিকেট
- পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অফার লেটার
- রিকমেন্ডেশন লেটার
- ট্রাভেল রেকর্ড
বর্তমানে তুর্কি সাইপ্রাসের ভিসার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায়, একটি গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক অসাধু দালাল ও এজেন্সি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
এ কারণে, ভিসা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে দালালদের প্রতি অত্যন্ত সতর্ক থাকা এবং তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা খুবই জরুরি।
সাইপ্রাস কোন কাজের চাহিদা বেশি
তুর্কি সাইপ্রাসে ভালো আর্থিক উপার্জন করতে চাইলে, আপনাকে অবশ্যই সেখানকার চাহিদা সম্পন্ন কাজের ভিসা নিয়ে যেতে হবে। সাইপ্রাসে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ থাকলেও, কিছু পেশার চাহিদা সেখানে সারাবছরই স্থির থাকে।
এই ধরনের চাহিদা-ভিত্তিক কাজের ভিসা নিয়ে গেলে, আপনি দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি ভিসাতেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এটি খুব সহজে বৃদ্ধি করে নেওয়া সম্ভব।
যেসব কাজের চাহিদা তুর্কি সাইপ্রাসে সবথেকে বেশি, সেগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কাজগুলি হলো:
- রেজিস্টার্ড নার্স,
- সফটওয়্যার ডেভেলপার,
- প্রকল্প ব্যবস্থাপক,
- ডেলিভারি বয়,
- মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান,
- ফুড সার্ভিস ওয়ার্কার,
- ট্রাক ড্রাইভার,
- ইলেকট্রিশিয়ান এবং
- ওয়েল্ডার।
সাইপ্রাস যেতে কত বছর বয়স লাগে?
সাইপ্রাস ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইলে আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর। তবে, কাজের ভিসা নিয়ে এই দেশে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের বয়স ২০ বছরের বেশি হলে সেটি সুবিধাজনক হয়।
প্রায়শই দেখা যায়, সাইপ্রাসের নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ করে দেয়। সাধারণত, বাংলাদেশ থেকে সাইপ্রাস যেতে ইচ্ছুক ভিসা আবেদনকারীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
তুর্কি সাইপ্রাস যেতে কত সময় লাগে
বাংলাদেশ থেকে তুর্কি সাইপ্রাসের মোট দূরত্ব প্রায় ৫,৫৫৯ কিলোমিটার। এই বিশাল দূরত্ব স্থলপথে পাড়ি দেওয়া প্রায় অসম্ভব, এবং জলপথে ভ্রমণ করাও অত্যন্ত কঠিন।এই কারণে, বাংলাদেশ থেকে সাইপ্রাসে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো আকাশপথে বিমানের মাধ্যমে যাওয়া।
আকাশপথে ভ্রমণে আনুমানিক ১৩ ঘণ্টা থেকে ২১ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এছাড়া, বিমানের স্টপেজের সংখ্যা এবং তার সময়কালের ওপর নির্ভর করে মোট ভ্রমণের সময়কাল ১ দিন ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের মতোও হতে পারে।
FAQs
তুর্কি সাইপ্রাস ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?
তুর্কি সাইপ্রাস ১ টাকা বাংলাদেশের প্রায় ২.৮৩ টাকা।
সাইপ্রাসের মুদ্রার নাম কী?
তুর্কি সাইপ্রাসের মুদ্রার নাম হলো লিরা।
তুর্কি সাইপ্রাস সর্বনিম্ন বেতন কত?
তুর্কি সাইপ্রাসে গেলে কাজের ন্যূনতম বেতন ৫০ হাজার টাকা পাবেন।
সাইপ্রাসে ফুড সার্ভিস ওয়ার্কারের বেতন কত?
ফুড সার্ভিস ওয়ার্কারের জন্য বেতন সাধারণত ৪০০ ইউরোর আশেপাশে হয়।
সাইপ্রাসে ইলেকট্রিশিয়ানের জন্য সাইপ্রাসে কি বেতন?
ইলেকট্রিশিয়ানদের বেতন প্রায় ৬০০ ইউরো থেকে ১,০০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
সাইপ্রাসে ট্রাক ড্রাইভারের বেতন কত?
ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য বেতন প্রায় ৫০০ ইউরো থেকে ৮০০ ইউরোর মধ্যে হয়ে থাকে।
লেখকের শেষ মতামত
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালে সাইপ্রাস হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হওয়ায় এখানে কাজের পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান বেশ উন্নত।
সতর্কবার্তা: সাইপ্রাস যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ এজেন্সি এবং সঠিক কাগজপত্র যাচাই করে নেবেন। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি মাধ্যমে আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ। মনে রাখবেন, সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্যের মাধ্যমেই আপনি আপনার সাইপ্রাসে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।
